মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬, ০১:৪৪ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
Logo মোবাইল অ্যাপে ঋণের ফাঁদ: এক সপ্তাহেই অস্বাভাবিক সুদ, পরিশোধে দেরি হলেই হুমকি-হয়রানি Logo সাংবাদিক আরবিএস পাভেল চাঁদাবাজ নাকি ষড়যন্ত্রের শিকার? পূর্ণাঙ্গ ঘটনায় উঠছে নানা প্রশ্ন Logo রাজশাহী নৃত্য উন্নয়ন সংস্থার নতুন নেতৃত্ব: গতিশীল পরিবর্তনের প্রত্যাশা Logo প্রকৃতি, ঐতিহ্য ও আধুনিকতার অপূর্ব মেলবন্ধন কুষ্টিয়ার মনি পার্ক Logo Logo রাজশাহী প্রেসক্লাবে শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগ: কার্যনির্বাহী সদস্য শামসুল ইসলাম ও রেজাউল করিমকে কারণ দর্শানোর নোটিশ Logo মিথ্যা মামলায় আটক সাংবাদিক মিশাল মন্ডলসহ দুইজন জামিনে মুক্ত।। জেলগেটে সহকর্মীদের ফুলেল সংবর্ধনা” Logo মিথ্যা মামলা ও অপপ্রচারের প্রতিবাদে রাজশাহী বিভাগজুড়ে প্রতিবাদ সভার ঘোষণা Logo এপস্টেইন কেলেঙ্কারিতে এবার যুক্তরাজ্যের রয়্যাল লজ ছাড়লেন রাজা চার্লসের ভাই অ্যান্ড্রু Logo ট্রাম্পের কর্তৃত্ববাদী প্রবণতা বিশ্বজুড়ে মানবাধিকার ও নিরাপত্তাব্যবস্থাকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে: এইচআরডব্লিউ

রিপোর্টার: / ১৭ বার পড়া হয়েছে
আপডেট : শুক্রবার, ১০ এপ্রিল, ২০২৬, ২:২২ অপরাহ্ন

মোঃ নুরে ইসলাম মিলন :
গতকাল ৯ এপ্রিল রাজশাহী মহানগরী থেকে পরিবার-পরিজন নিয়ে কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলার গোলাপনগর এলাকায় অবস্থিত মনি পার্ক-এ একদিনের ভ্রমণে যান এই প্রতিবেদক। ব্যস্ত নগর জীবনের একঘেয়েমি থেকে মুক্তি পেতে প্রকৃতির সান্নিধ্যে কিছুটা সময় কাটানোর এই আয়োজন শেষ পর্যন্ত হয়ে ওঠে আনন্দ, প্রশান্তি ও পারিবারিক বন্ধনের এক অনন্য অভিজ্ঞতা।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, মনি পার্ক ভেড়ামারা উপজেলার মোকরিমপুর ও বাহিরচর ইউনিয়নের অন্তর্গত এলাকায় অবস্থিত এবং গোলাপনগর সোলেমান শাহ দরবার শরীফের নিকটবর্তী একটি বিনোদন কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত।
মনি পার্কের গঠন ও বিকাশের ইতিহাস পর্যালোচনা করলে জানা যায়, এটি কোনো প্রাচীন ঐতিহাসিক স্থাপনা নয়; বরং স্থানীয় উদ্যোগে ধীরে ধীরে গড়ে ওঠা একটি আধুনিক বিনোদন কেন্দ্র। শুরুতে এটি ছিল প্রাকৃতিক পরিবেশঘেরা একটি উন্মুক্ত এলাকা, যেখানে স্থানীয় মানুষ অবসর সময় কাটাতে আসতেন। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পর্যটনের সম্ভাবনা বিবেচনায় এখানে বৃক্ষরোপণ, বসার স্থান, শিশুদের জন্য রাইড এবং দর্শনার্থীদের জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো তৈরি করা হয়। বর্তমানে এটি কুষ্টিয়া অঞ্চলের একটি পরিচিত পারিবারিক বিনোদন কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেয়েছে।
পার্কটির অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো এর প্রাকৃতিক ও কৃত্রিম সৌন্দর্যের সমন্বয়। সবুজ গাছপালা, খোলা পরিবেশ, মাটির রাস্তা এবং নদীর তীরবর্তী অবস্থান—সব মিলিয়ে এটি দর্শনার্থীদের জন্য এক প্রশান্ত পরিবেশ তৈরি করে। একই সঙ্গে এই এলাকা পাখির জন্যও একটি গুরুত্বপূর্ণ আবাসস্থল হিসেবে পরিচিত, যেখানে বিভিন্ন প্রজাতির পাখির উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়।
রাজশাহী থেকে সড়কপথে স্বল্প সময়ের যাত্রা শেষে পার্কে পৌঁছানো যায়। যাত্রাপথে পদ্মা নদীর আশপাশের গ্রামীণ প্রকৃতি ভ্রমণকে আরও আকর্ষণীয় করে তোলে। পার্কে প্রবেশ করতেই চোখে পড়ে বিস্তৃত সবুজ চত্বর, শিশুদের জন্য বিনোদন রাইড, দোলনা এবং পরিবার নিয়ে বসার জন্য ছায়াঘেরা নিরিবিলি স্থান।
পার্ক কর্তৃপক্ষের নির্ধারিত তথ্য অনুযায়ী, এখানে প্রবেশ ফি ব্যক্তি প্রতি সাধারণত ৩০ থেকে ৫০ টাকা (সময় ও মৌসুমভেদে পরিবর্তনশীল) ধার্য করা হয়। শিশুদের জন্য কিছু ক্ষেত্রে বিশেষ ছাড়ও রাখা হয়।
পার্কে বিভিন্ন রাইড ও বিনোদন উপকরণ ব্যবহারের জন্য আলাদা টিকিটের ব্যবস্থা রয়েছে। শিশুদের জন্য দোলনা, ছোট ট্রেন, নৌকা বা খেলাধুলার রাইডে সাধারণত ৩০ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত টিকিট নির্ধারিত থাকে। কিছু বড় রাইড বা বিশেষ বিনোদন ব্যবস্থায় টিকিট কিছুটা বেশি হতে পারে। পরিবার নিয়ে আসা দর্শনার্থীরা একাধিক রাইড উপভোগ করতে আলাদা প্যাকেজ ব্যবস্থাও গ্রহণ করে থাকেন।
তবে মনি পার্কের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ এর ভৌগোলিক অবস্থান। এখান থেকেই দৃষ্টিগোচর হয় ঐতিহাসিক হার্ডিং ব্রিজ এবং দেশের বৃহৎ উন্নয়ন প্রকল্প রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র।
পদ্মা নদীর ওপর দাঁড়িয়ে থাকা শতবর্ষী হার্ডিং ব্রিজ যেমন অতীতের স্থাপত্য ঐতিহ্যের প্রতীক, তেমনি পাশেই অবস্থিত রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র আধুনিক বাংলাদেশের প্রযুক্তিগত অগ্রযাত্রার প্রতিচ্ছবি। একই স্থান থেকে এই দুই ভিন্ন সময়ের নিদর্শন একসাথে দেখা যাওয়ায় দর্শনার্থীদের কাছে এটি হয়ে উঠেছে এক অনন্য অভিজ্ঞতা।
বিশেষ করে বিকেলের পড়ন্ত আলোয় পদ্মা নদীর জলে যখন হার্ডিং ব্রিজের প্রতিচ্ছবি পড়ে এবং তার পাশে দৃশ্যমান হয় পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের সুউচ্চ কাঠামো-তখন পুরো পরিবেশ যেন এক জীবন্ত চিত্রপটে রূপ নেয়। অনেক দর্শনার্থীকে সে সময় ছবি তুলতে ও দৃশ্যটি উপভোগ করতে দেখা যায়।
ভ্রমণকালে পার্কের ভেতরে সাধারণ খাবারের ব্যবস্থা থাকলেও উন্নতমানের রেস্টুরেন্ট সুবিধা সীমিত। দর্শনার্থীদের মতে, খাবার ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা আরও উন্নত করা গেলে পার্কটির আকর্ষণ আরও বাড়বে।
ভ্রমণ শেষে পরিবার সদস্যদের মুখে ছিল তৃপ্তির হাসি। তাদের ভাষায়, “এ ধরনের প্রাকৃতিক পরিবেশে কিছু সময় কাটানো মানসিক প্রশান্তি দেয় এবং পারিবারিক বন্ধনকে আরও দৃঢ় করে।”
সব মিলিয়ে, স্থানীয় উদ্যোগে গড়ে ওঠা কুষ্টিয়ার মনি পার্ক বর্তমানে উত্তরাঞ্চলের একটি সম্ভাবনাময় পর্যটন কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। পরিকল্পিত উন্নয়ন ও পর্যটনবান্ধব অবকাঠামো গড়ে তোলা গেলে ভবিষ্যতে এটি দেশের অন্যতম জনপ্রিয় ভ্রমণ গন্তব্য হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর

Design & Developed by : Ecare Solutions